সাইন্স ফিকশন

সাদা কালি

আব্দুল্লাহ আল মারুফ

২৬.০৯.২০৩৯
বর্ষসেরা উদীয়মান বিজ্ঞানী হিসাবে এ বছর সম্মাননা গ্রহন করেছেন আসগর আল মুকিদ, বাংলাদেশ। ‘ব্রেইন টেকনোলজি অ্যান্ড ইট্স ইফেক্ট অন টাইম সারকুলেশন’ এর উপর গবেষণা তাকে এই সম্মাননা এনে দিয়েছে। কিন্তু দুঃসংবাদ, নিজের ব্রেইনের উপর এক্সপেরিমেন্ট করতে গিয়ে তার স্মৃতির কিছু অংশ বিধ্বস্ত হয়ে গিয়েছে ।

২১.০৫.২০৬৩
আসগর প্রতিদিন রাত দেড়টায় ঘুম থেকে উঠে। তার মনটা কেমন জানি উসখুস করতে থাকে, জানে না সে কি জন্য। রোবট ফুহানা তখন বিশ্রাম নেয়। নিজেই উঠে কফি বানাতে হয়। কি ঝামেলা! কালই তার বিশ্রামের টাইম মডিউল চেঞ্জ করে দিতে হবে। বিজ্ঞান পরিষদের সভপতি নিজ হাতে কফি বানায় শুনলে মানুষ কি অবাক-ই না হবে। যার গবেষণা মানুষকে হাতের কাজ থেকে মুক্ত করেছে, সেই আসগর আল মুকিদ-ই নিজ হাতে কাজ করে কি হাস্যকর !

২৩.০৬.২০৬৩….রাত ৯.৫৬
আজ বেশ গুরুত্বপূর্ণ কিছু ঘটনা ঘটেছে। ‘৫৬-টেক্সন ’ নামে যে উপগ্রহটি পৃথিবীর দিকে এগিয়ে আসছিলো তাকে উড়িয়ে দেয়া সম্ভব হয়েছে, ব্ল্যাক হোলে প্রবেশ যে শুধু তাত্ত্বিকভাবেই সম্ভব তার গাণিতিক প্রমাণ করা হয়েছে, মানুষের মস্তিষ্কে বিষপানের নিখাদ অনুভূতি দেয়ার একটি প্রোগ্রাম তৈরী সম্ভব হয়েছে, যা মানুষের কােেছ জীবনকে আরও মূল্যবান করে তুলবে। অনেক পরিশ্রম গেছে।

২৩.০৬.২০৬৩…..রাত ১.০০ টা
আসগরের ঘুম ভেঙ্গেছে । আজ ফুহানা সচল আছে। সে তার যান্ত্রিক গলায় বললো , “স্যার, কফি নাকি চা ? “চা?” আসগরের মনটা উসখুস করতে লাগলো “এটা কি ?” কোথায় যেনো শুনেছে ! “স্যার এটাও একটা পানীয় এশিয়াতে খুব জনপ্রিয় ছিল।

“আনো তো” তার কেমন জানি কৌতুহল অনুভূত হলো।

ফুহানা চলে যেতেই আসগর হরোগ্রাফিক স্ক্রিনে হাত রাখলো, সে বাংলাদেশ পরিভ্রমণ করবে। তার পুরোনো ডাটায় লেখা দক্ষিণ এশিয়ার এই ছোট্ট দেশটিই নাকি তার জন্মভূমি ছিল। মন বিক্ষিপ্ত থাকলে আসগর এই সব অর্থহীন কাজ করে থাকে। হঠাৎ তার চোখ আটকে গেল একটা পুরোনো স্যাঁতস্যাতে ভবনে। একটা সরু গলির ভিতরে ঢুকে ভবনটিতে উঠতে হয়। আসগর ভবনটিতে প্রবেশ করলো কেমন জানি সোঁদা একটা গন্ধ পরিচিত ঠেকে! চতুর্থ তলায় এসে তার কান ভোঁ ভোঁ করতে লাগলো। আসগর কিছুই বুঝতে পারছে না। সে পঞ্চম তলায় উঠলো, দেয়ালে অসংখ্য লেখা, চিত্রকর্ম । কিছু তারিখ লেখা ২৫.০৯.২০১৫, ২১.০৭.২০১৬ তার মাথা ভন ভন করতে লাগলো । অবাক ব্যাপার ! “দোস্ত্! চা খাবি?

আসগর আঁতকে উঠলো! ফুহানা চা নিয়ে এসেছে “মানে কি ?” নিজের তৈরি রোবটের এমন অর্থহীন, শব্দের অপপ্রয়োগে সে কিছুটা বিরক্ত। ফুহানার গালের বাম পাশে মিটিমিটি হাসির কমলা বাতিটি জ¦লতে লাগলো।ইদানিং সে বেশ দুষ্টু হয়ে উঠেছে। কাল দুপুরে একবার আসগরের বিধ্বস্ত স্মৃতির যে মডিউলটি আছে তা তার কপোট্রন কে লাগালো কে জানে! বিধ্বস্ত স্মৃতির মডিউলে তার হারিয়ে যাওয়া স্মৃতি গুলো সংরক্ষিত আছে যেটা সে নিজে ব্যবহার করতে পারেনা। আসগর চায়ে চুমুক দিল। কি আজব! হঠাৎ সে পরিতৃপ্তি অনুভব করলো। রাত দেড়টা বাজে। তাহলে কি প্রতিদিন রাত দেড়টায় এই অদ্ভুত পানীয়ের জন্যই তার মন উসখুস করতো?
ধুর !

যতসব অর্থহীন চিন্তা ভাবনা-তবে চা ভালো। ছোট্ট কাঁচের কাপে দুধের সর ভাসানো মিষ্টি দুধ চা!

(১০/১০ এর নিশাচর প্রাণীদের উৎসর্গকৃত)

ফেইসবুক থেকে করা মন্তব্যসমূহঃ

মন্তব্য করুনঃ

avatar
  Subscribe  
Notify of
Close