সাইন্স ফিকশন

কিউরিয়াস

মো: ইজাজ ওমর হিমেল

আবিরের এলাকায় অনেকদিন ধরে সমস্যা চলছে। সব বর্বরতাকে হার মানানোর জন্য তার শহরের সবাই যেন উঠে পড়ে লেগেছে। ঝগড়া বিবাদ সবসময় লেগেই আছে। এই যে সামান্য কারণেই বাসার নিচে দুজন মারপিট করে এখন হাসপাতালে মৃত্যুর সঙ্গে যুদ্ধ করছে। এসব দেখতে দেখতে বর্তমানে সে কাহিল হয়ে পড়েছে।

আবির এখন একাদশ শ্রেণীর ছাত্র। সে এসব সমস্যা নিয়ে কিছু ভাবতে চেষ্টা করছে, সমাধানের চেষ্টা করে যাচ্ছে। একদিন কলেজে যাবার সময় সে আবিষ্কার করলো বাসের ভিতর একটা অদ্ভুত শব্দ ও আলোর ছড়াছড়ি। যখন পরদিন তার ঘুম ভাঙলো, সে দেখলো সে আর তার বিছানাই নেই, সে হাসপাতালে বেডে। সাথে তার বাবা-মা ও ডাক্তাররা আছেন। গতদিন কি হয়েছিলো তা জানতে চাইলে তার বাবা বলে জঙ্গি হামলা হয়েছিলো। এর ফলেই তার আজ এ অবস্থা। সে জানতে পারে তার বাসের অনেকেই মারা গেছে। সেও গুরুতর আহত হয়েছে।
সুস্থ হবার পর সে এসবের কারণ খুঁজতে শুরু করে, কেন সমাজের এ অবস্থা। এর জন সে একটি দলও বানিয়ে নেয় কিন্তু কোনো কূল-কিনারা করতে পারে না।
আজকের পরিবেশ ভালো। কেমন একটা ভালো লাগার ব্যাপার আছে এই আবহাওয়ায়। সে ও তার বন্ধুরা বিকালে মিলিত হয়ে সমস্যার সমাধান বের করার চেষ্টা করছে। হঠাৎ তারা লক্ষ্য করলো পাশের বাগানে যেন একটা আগুনের গোলার মত কিছু পড়ল। আবির ও তার বন্ধুরা বোমা মনে করে দৌড় দিলো। তবে কিছুক্ষণ পর তারা দূর থেকে লক্ষ করলো, কিছু পড়েছে।


ব্লাস্ট হলো হলো না কেনো? এটা আবার কোন ধরনের বোমা, আবির বললো।

রনি বললো- চল দেখে আসি। তারপর তারা বাগানে গিয়ে দেখলো একটা বড় আকারের কি যেন পড়ে আছে। তার থেকে ধোয়া বের হয়ে আসছে। পুনরায় পেছনে ফিরতে গিয়ে পিন্টু দেখলো পেছনে যেন কি দাঁড়িয়ে আছে। তারা সবাই ভূত মনে করে চিৎকার দিয়ে পালাতে শুরু করলে অদ্ভূত প্রাণিটি তাদের দাঁড়াতে বলে। তারা ভয়ে ভয়ে দাঁড়ালো। প্রাণিটি বললো-
আমার নাম কিউরিয়াস। তোমরা যেও না। আমি তোমাদের সাথে কথা বলবো। তোমরা কি আমার বন্ধু হবে।
আবির বললো- তুমি কোথা থেকে এসেছো?
‘আমি নেপচুন থেকে এসেছি।’
আবির বললো- নেপচুন থেকে এখানে কেনো?

‘আমাদের এখানে খুব সমস্যা চলছে। আমাদের জ্ঞানীরা বলেছেন, পৃথিবীতে নাকি এমন এক কিতাব আছে যার মাঝে রয়েছে সব সমস্যার সমাধান। আচ্ছা তোমার কাছে এমন বই কি আছে যার আছে সব সমস্যার সমাধান।
আবির চিন্তায় পড়ে গেল। বন্ধুরা মিলে চিন্তা করেও বের করতে পারছে না। কারণ এমন বই থাকলে তো নিজেরাই নিজেদের সব সমস্যার সমাধান করে ফেলতে পারতো। তবে কি এমন বই পৃথিবীতে আছে?
কিউরিয়াস বললো- আমাদের জ্ঞানীরা বলছে এ বই নাকি মানুষ দ্বারা রচিত হয়নি।

তখনি সবাই একসঙ্গে বলল- মানুষের দ্বারা রচিত হয়নি এতো হলো কোরআন। চলো তাহলে আমরা কোরআন সংগ্রহ করি।
বন্ধুরা মিলে একটি কোরআন শরীফ কিনে কিউরয়াসকে উপহার দিলো। কিউরিয়াস তা পড়ে দেখে বললো- সত্যিইতো এতে রয়েছে সব সমস্যার সমাধান।
পিন্টু বললো- তবে আমরা কেন এ দিয়ে সমস্যা সমাধান করতে পারি না।
কিউরয়াস বললো- মানে কি? তোমরা এ ভাষা পড়তে জানো না?
রনি বললো- আমরা এ ভাষা পড়তে জানি। তবে অর্থ বুঝতে পারি না।

‘ও আচ্ছা এখানেই সমস্যা। আমরাতো সব ভাষা বুঝার জন্য যন্ত্র ব্যবহার করি। তাই আমরা বুঝি। আচ্ছা এর কোনো বাংলা অনুবাদ তোমাদের কাছে আছে?’
আবির বললো- আছে।

‘তাহলে তোমরা কেন সে বই পড়ে তোমাদের সমস্যা দূর করছো না? আমি এ বই পড়ে যা বুঝলাম এতে সব সমস্যার সমাধান রয়েছে। কীভাবে জীবনে সুখ ও শান্তিতে বসবাস করা যায় তার সব এখানে বর্ণনা করা আছে।’ সন্ধ্যার পর তারা কিউরিয়াসকে বিদায় দিল।

আবির ভাবতে শুরু করলো- এমন কিতাব থাকা সত্ত্বেও আমরা কেন সমস্যার সমাধান করতে পারছিনা? অথচ ভিনগ্রহের প্রাণী এর সন্ধানে আমাদের এখানে চলে এসেছে।

ফেইসবুক থেকে করা মন্তব্যসমূহঃ

মন্তব্য করুনঃ

avatar
  Subscribe  
Notify of
Close