প্রবন্ধ

চাহিদার সীমা

বুলবুল সরওয়ার

আমি অর্থনীতিবিদ নই। সাধারণ বুদ্ধিতে বুঝি, মানুষের আকাংখা সীমাহীন। ‘আরো চাই-আরো চাই’য়ের ফাঁদে দুনিয়ার মানুষকে আটকাতে পেরেছে পুঁজিবাদ। একবার নোবেলজয়ী বার্নার্ড শ’ লন্ডনের এক শপিং মলে ঢুকলেন। এতবড় পন্ডিত, নাট্যকার ও দার্শনিককে দেখে সেলস্-ম্যানরা জিনিসের পর জিনিস নামিয়ে পাহাড় বানিয়ে ফেললো। শ’ দেখেন আর হাসেন। শেষপর্যন্ত যখন কিছুই না-কিনে, কিছুই না-নিয়ে বেরিয়ে যাচ্ছেন, বিস্মিত দোকানী সবিনয়ে জানতে চাইলেন: স্যার, এত জিনিস দেখলেন, কিন্তু কিছুই নিলেন না… এর হেতু কি?
শ’ হেসে বললেন:- দেখলাম, কত জিনিস ছাড়াই আমি বাঁচতে পারি!।

আমরা আজকাল প্রায়শই ভুলে যাই- অত্যাবশ্যকীয়, প্রয়োজনীয় এবং নুন্যতম জিনিস বলতে কি বুঝায়। সে কারণেই বইমেলা থেকে কাড়ি-কাড়ি বই কিনে কেবলই ড্রইংরুম সাজানো, দু-চারটি পৃষ্ঠাও পড়া হয় না। গাড়ির মডেল, বাড়ির চাকচিক্য আর শাড়ির ডিজাইনেই আমরা আটকে গেছি ভেতরের বস্তুর মূল্যায়ন করছি না।

অথচ মানুষ এমনই নাজুক যে দুটি চেয়ারে একত্রে বসতে পারি না; দুটি বিছানায় শুতে পারি না তবু চাই, চাই, আরো চাই। একবারও ভাবছি না, এই ছোট্ট মুখ দিয়ে আর কতটুকুই বা খাওয়া যায়? আসঙ্গলিপ্সায় কত আর মগ্ন হওয়া যায়? প্রদর্শনীর জন্য আর কত অনাবশ্যক জিনিস দরকার? কোথায় থামবে আমাদের চাহিদার সীমা! জবাবে প্রায়ই শুনি: সন্তানদের জন্য করে যাচ্ছি। প্রশ্নটা হলো: বিধাতা যদি তকদিরের মালিক-ই হন, সন্তানের সব-টুকু ভার আমাকে নিতে হবে কেন?

আমি তাই মনকে জিজ্ঞাসা না-করে পারছি না তোর পেটের ক্ষুধা তো মিটলো, মনের তৃপ্তি কবে হবে? কবে তুই না-বলতে শিখবি বাহুল্যকে? কবে তোর যাকাত হবে অহংকারের-বিসর্জন??

 

ফেইসবুক থেকে করা মন্তব্যসমূহঃ

মন্তব্য করুনঃ

avatar
  Subscribe  
Notify of
Close