নিজের কথা

আসুন নিজেদের পাল্টাই

আফতাবুল ইসলাম

আমরা বাংলাদেশি। প্রতি বছরই পহেলা বৈশাখ আমাদের মাঝে ফিরে আসে। এই একটি দিন উদযাপনে আমরা নানান রকম আয়োজন করে থাকি। নিজেদের দেশপ্রেম ও জাতীয়তা তুলে ধরতে আমাদের ব্যাস্ততার যেন একটুকুও কমতি নেই। এবার কষ্টের জায়গাটার কথা বলি। নববর্ষের দিনটাতে সকালে যারা ব্রেড, জেলি দিয়ে নাস্তা করি, তারা এই দিন পান্তা ও ইলিশ মাছ ভাজা খায়। জিন্স, টি-শার্ট অন্যসময় পরলেও ঐ দিন আমরা পাঞ্জাবি আর শাড়ি পরিধান করি। সব কিছুতেই দেশের স্বকীয়তা তুলে ধরার চেষ্টা। কিন্তু এই একই আমরা বছরের বাকি দিনুগলোতে এসবের ছায়াও মোড়াতে রাজি হইনা কিংবা আমাদের এ চেহারার খুঁজ পাওয়া যায় না। কি দারুণ অভিনেতা-অভিনেত্রী আমরা।

পহেলা বৈশাখের দিন খাঁটি বাংলাদেশি হওয়ার অভিনয় করি আমরা। এই অভিনয়ের সময়টুকুও খুব বেশী থাকে না। পহেলা বৈশাখের দিন শেষে যখন সন্ধ্যা নামে, তখনি ভিন্ন এক চেহারা সামনে এসে দেখা দেয়। যখন আমরা পিটবুল, সুনিধি চৌহান, জেনিফার লোপেজের গান সাউন্ড বক্সে ছেড়ে উন্মাদের মতো নাচা-নাচি করি ঠিক তখনি বোঝা যায় পহেলা বৈশাখেও খাঁটি বাংলাদেশি হবার অভিনয় করতেও আমরা ব্যর্থ। সারা বছর নিজেদের শতভাগ বাংলাদেশি সংস্কৃতি লালনের মধ্যে রাখা যেন কল্পনাই করা যায় না।

পহেলা বৈশাখের পূর্বের দুই সপ্তাহ ধরে চলে শাড়ি, পাঞ্জাবি, জুতাসহ আরো কত কিছুর কেনাকাটা। দাম বেশি থাকলেও কিনতেই হবে। একদম সব কিছু মিলিয়ে অর্থাৎ পাঞ্জাবির রঙের সাথে জুতার রঙ, শাড়ির সাথে কানের দুলের রঙ।

ইলিশ মাছ ছাড়া যেন পহেলা বৈশাখ চলে না। চড়া দাম শুনে মনে মনে কষ্ট পেলেও সব চেয়ে ভালো মাছটি কিনে নেন। বড় দেখে ইলিশ না নিয়ে গেলেতো, আমাদের তৈরি ‘সোসাইটি’তে মুখ দেখানো যাবে না যেন! দাম যতই হোক তা কিনে নিনে নেন অনেকেই। পার্লার গুলোতে নারীদের সাজের জন্য ভীড় ভেড়ে যায়। নববর্ষ বলে কথা। হোক না তাতে বাড়তি টাকা খরচ তাতে কি? এছাড়া দিবসটি উপলক্ষে বিভিন্ন সামাজিক, সাংস্কৃতিক প্রতিষ্ঠান আয়োজন করে কনসার্টের। এসব আয়োজনেও আমরা অনেক টাকা খরচ করি। যেন টাকার সমস্যা নেই। অথচ যখন দরিদ্রদের পেট ভরে একবেলা খাওয়ানো কিংবা তাদের সহযোগিতার কথা আসে, তখনই আমাদের মাথায় টাকার অঙ্ক ঘুরপাক খায়। আমরা কি একটু ভেবে দেখতে পারিনা যে দিনটাতে আমরা এত ব্যায় করে আনন্দ করছি, সে দিনই আমাদের পাশে আরেকটা শ্রেণী আছে যারা একবেলা পান্তার খাবার জোগাড় করতে হাহাকার করছে। আমরা কি পারিনা অপব্যায় বন্ধ করে তাদের পাশে দাঁড়াতে। একটু সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দিতে।

আমার লেখা পড়ে হয়তো অনেকেই দোষবেন। বলবেন- আগে নিজে করো। হ্যাঁ আমিও দোষী। কারণ আমিও আপনাদেরই দলে। আর তাই এ উপলব্দি তাড়া করে বেড়াচ্ছে। আসুন, আমি, আমরা সবাই পাল্টে যাই। দেশের প্রতিটি মানুষকে ভালোবেসে, সুখ ভাগ করে দেশের একজন হই।

ফেইসবুক থেকে করা মন্তব্যসমূহঃ

মন্তব্য করুনঃ

avatar
  Subscribe  
Notify of
Close