নতুন কাব্য

আম্মা

বখতিয়ার মুজাহিদ সিয়াম

সেই কতদিন ধরে দেখছি!
আম্মা শাক কুটতে বসেন,
পুঁইশাক কুটছেন,
আমার পছন্দের শাক।
আমি বাড়ি ফিরছি!
শাক কুটতে গিয়ে,
আম্মা আমার অপেক্ষায় অধীর হন
শাকের বদলে হাত কুটে ফেলেন!

আমি ঘরে ফিরছি।
আম্মা অপেক্ষায় অধীর হন।
কখন আমি এসে চৌকাঠে জড়িয়ে ধরি!

হায় আম্মা!
গোল চশমায় কিংবা বেনারসী-জামদানি!
একই রয়ে গেলেন!

কি ত্রিশ! কি ষাট!
আম্মা চোখের পানি ফেলেন,
আমি আম্মাকে জড়িয়ে ধরি।
কি দুই! কি চল্লিশ!
আমিও বদলাইনা, না মা বদলান!

আমি ঘরে ফিরবো,
আম্মার চোখে নিঁদ নাই,
গভীর রাতেও জেগে থাকেন,
কল্পনায় দেখেন,
আমি এসে তাকে জড়িয়ে ধরছি।
কোলে মাথা রেখে গল্প করছি!

আমি বাড়ি আসবো,
আম্মা অপেক্ষায় অধীর হন,
কল্পনায় আমার কপালে চুমু দেন।
পরম আবেশে জড়িয়ে ধরেন।
নানার বাড়ি থেকে আসা দেশি মুরগিটাও
আব্বারে একা খাওয়ান না!
ফ্রিজে জিইয়ে রাখেন,
আমারে নিয়াই খাবেন!

অভাবের সংসারে
ছ’মাসে, ন’মাসে ক বারই বা ইলিশ আসে!
আম্মা জানেন,
আম্মার হাতের সেই দুর্দান্ত ইলিশ ভাজি,
সাথে ভাজা ভাজা পেঁয়াজগুলো আমার কত্ত পছন্দের!

আম্মা তাজা ফুলকপিগুলো রাঁধেন,
চুলার আঁচটা একটু বাড়ান,
আশায় বুক বাঁধেন
আম্মার চোখে জল ঝরতে থাকে,
খুশির জল!
আমি আসতেছি।
আম্মা আরো অধীর হন!

দরজায় আমি,
‘আম্মা…’
সাইক্লোনের বেগে একটা খালি বুক আমার কলিজার দিকে তেড়ে আসে।
আম্মা আমাকে জাপ্টে ধরেন,
তার বুক ভরে।

চোখের জলে ভিজতে থাকে আমার কাঁধ।
গালে অস্তিত্ব খুঁজে পাই এক মহিয়সী নারীর।
হ্যাঁ, আম্মা বেশুমার চুমু দিচ্ছেন গালে।
কি ত্রিশ! কি ষাট!
আমার চোখফাটা জল।
আমার গলা ভেঙে আসে।

ভাঙা গলায় অস্ফূট শব্দ বের হয়
‘আম্মা,
সব যুগে, সব কালে
আপনি এমন ক্যান!
এতো অদ্ভুত আর এতো নতুন!

আম্মা,
আপনার কি রূপের শেষ নাই?
আপনার কইলজাটা এত বড় ক্যান!’

(আম্মারা বদলান না! আঠার মতো লেপ্টে থাকেন কলিজায়)

ফেইসবুক থেকে করা মন্তব্যসমূহঃ

মন্তব্য করুনঃ

avatar
  Subscribe  
Notify of
Close