গল্প

অসতর্কতার পরিণাম

জাহিদুল ইসলাম

ছোট থেকেই ছেলেটা একটু ডানপিঠে স্বভাবের। ক্লাসে খুব ভালো হলেও ধরাবাঁধা নিয়মনীতি মানতে নারাজ। পড়াশোনায় অন্যদের তুলনায় ভালো হলেও শৃঙ্খলাবিধি না মানার দায়ে প্রায়ই আলী স্যারের কানটানি খেতো।

একসময় সে লেখাপড়ার প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম কেনার জন্য শহরে যায়। গ্রাম থেকে শহর প্রায় ৩ কিলোমিটার দূরে। বাস যোগে বাস স্ট্যান্ডে পোঁছে সে। স্ট্যান্ড থেকে ঠিক বিপরীত পথে লাইব্রেরি বাজার। সেখান থেকে মিনিট পাঁচেকের পথ। প্রায় ১০০ গজ দূরে ওভারব্রীজ। ওভারব্রীজ পেরিয়ে একটু বামদিকে গেলেই লাইব্রেরী বাজার। ভাবলো ওভারব্রীজ পার হওয়া টা ঝামেলার। তাই রাস্তার মাঝ দিয়ে পার হওয়ার পরিকল্পনা করলো। রাস্তায় জট ছিলো প্রচুর। কিন্তু সে তবুও রাস্তা পার হবেই। তখন একটু জানজট কমেছে। রাস্তা বেশ ফাঁকাফাঁকা। সে ভাবলো এটাই রাস্তা পার হবার উপযুক্ত সময়, দিলো এক দৌঁড়। আর মাত্র ২/৩ ধাপ দিলেই সে পেরিয়ে যাবে। রাস্তার ওপাশ হেকে তীব্র গতিতে ছুটে আসছিল এক মোটর সাইকেল।

মুহুর্তেই ঘটে গেল অনাকাঙ্খিত ঘটনা। মোটরসাইকেলটা একপাশ থেকে সাজ্জাদকে চাপা দিলো। দৌড়মূখী থাকার কারণে সাজ্জাদের পা ও হাতে আঘাত লাগলো, রাস্তায় মুখ থুবড়ে পড়ে গেলো। সাথে বিকট আকারের চিৎকার করলো।
চিৎকার শুনে এগিয়ে আসলো পথচারীরা।

পা থেকে রক্ত ঝরছে। এমতাবস্থায় তারা সাজ্জাদকে সিএনজি যোগে সদর হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। ডাক্তারের রিপোর্টে জানা যায় সাজ্জাদের ডান পা ভেঙে গেছে। জরুরি বিভাগ থেকে ব্যান্ডেজ করে দিয়ে সাজ্জাদকে ঢাকা মেডিকেলে পাঠানো হয়।

প্রায় ২ মাস পর সাজ্জাদ বাড়ি ফিরে। ফিরলেও সাথে বাড়ি ফিরেনি তার ডান পা। কারণ, সেই পা কেটে ডাক্তার কৃত্রিম পা লাগিয়ে দিয়েছে। আজ সাজ্জাদ নামের সেই ছেলেটি পঙ্গু। পারে না নিজের মতো করে চলাফেরা করতে। স্কুলে যাওয়ার সৌভাগ্য হয় না তার। আর খাওয়া হয় না আলী স্যারের কানটানি। বন্ধুদের সাথে আর বিকালের অলস সময়ে খেলাধুলার সুযোগ হয় না তার।

আজ সে অসহায়। কুয়াশাচ্ছন্ন হয়ে উঠেছে তার রঙ্গিন ভবিষ্যৎ। সামান্য অসতর্কতার জন্যই এসব ঘটলো। সে আজ অনুতপ্ত।

 

 

ফেইসবুক থেকে করা মন্তব্যসমূহঃ

মন্তব্য করুনঃ

avatar
  Subscribe  
Notify of
Close