গল্প

অজানা গন্তব্যে

রনি, নটর ডেম কলেজ

রাস্তাটা আপাততো খালি। আশে পাশে তেমন কাউকে দেখছি না। ঢাকা শহরে এমন ফাঁকা রাস্তা ভাবাই যায় না। কিন্তু দূরে ঐ যে একজন হেঁটে যাচ্ছে, কে? গায়ে হলুদ পাঞ্জাবি, পরনে কালো প্যান্ট আবার খালি পা, ব্যাপারটা কি? একটু দেখা দরকার। দৌঁড়ে কাছে যেতেই রীতিমতো অবাক বনে গেলাম।

-আপনি হিমু তাই না?
-তুমি দিপু, রাইট?
-জি¦, কিন্তু আপনি তো হুমায়ূন আহমেদ স্যারের সৃষ্টি চরিত্র, আর আমাকে চিনলেনই বা কি করে?
-হুমায়ূন আহমেদ স্যারের সৃষ্টি চরিত্র হয়েও আমি কিন্তু লাখো পাঠকের হৃদয়ে আছি। আর যারা আমাকে পড়ে আমি তাদের সবাইকে চিনি।
-কিন্তু হিমু ভাইইইই…..
-কোনো কিন্তু না, এই সুন্দর জোৎস্না রাতে তুমি কি কর?

-না ভাই কিছু না, আসলে এই ঢাকা শহরের ফাঁকা রাস্তায় আপনাকে দেখে একটু কৌতুহল হলো তাই দৌঁড়ে আপনার কাছে আসলাম। কিন্তু আপনি এখানে।
-ও আচ্ছা, শোন হিমুদের পেট ভরে জোৎস্না খেলে, মন ভরে প্রাণভরে বাতাস খেলে ভালোলাগে। আর ভালোলাগে খালি পায়ে কোনো অজানা গন্তব্যে হাঁটতে।
-জানি তো, কিন্তু সব যেন কেমন গুলিয়ে যাচ্ছে, তাই জিজ্ঞেস করলাম। কিছু মনে করবেন না…..প্লিজ।
-হিমুরা কারো কথায় কিছু মনে করে না।
-এখন কোথায় যাবেন?
-ঠিক নাই তবে সুলায়মানের সাথে একবার দেখা করবো ভাবছি। সেই এক রাতে ওকে স্লীপিং ব্যাগটা দেওয়ার পর আর খোঁজখবর নেওয়া হয়নি। তাই ভাবছি, একবার দেখা করা দরকার।
-আচ্ছা, হিমু ভাই একটা প্রশ্ন করবো?
-হুমম….বলো।

-আচ্ছা ভাইয়া আপনি কেন এরকম একটা জীবন বেছে নিলেন? কখনো মনে হয় না যে জীবনটা বৃথা হয়ে যাচ্ছে, যার কোন উদ্দেশ্য নাই?
-একটু মুচকি হেসে বললেন, তুমিতো দেখছি মিসির আলীর মতো কথা বলছো। শোন, জীবন হওয়া উচিত পাখির মত স্বাধীন। যেখানে কোন ধরা বাধা নিয়ম থাকবে না। জীবনের কোন ক্ষণে এক টুকরো স্বাধীনতার সুখে তার কাছে সমস্ত সম্পদ তুচ্ছ। এক টুকরো হলেও মায়া, মমতা, স্নেহ, ভালোবাসা হওয়া উচিৎ সমুদ্রের মত গভীর যার পরিমাপ করা যাবে না। এগুলো যদি কখনো না পাও, তাহলে জীবনের এমন কোন মুহূর্তে তা তীব্রভাবে অনুভব করবে কিন্তু তখন সময় থাকবে না।

-হুম, ভাই আপনিই সঠিক।
-আচ্ছা শোন আজ অনেক কথা হলো। এখন বাসায় যাও। না হয় আম্মু চিন্তা করবে।
-আচ্ছা। আমার মাথায় হাত বুলিয়ে আবার সামনে হাঁটতে শুরু করলো। ধীরে ধীরে বিন্দুতে মিলিয়ে গেল। আমি তাকিয়েই আছি।
খোকা, এ খোকা বিকালে কলেজ থেকে এসে “হিমুর দ্বিতীয় প্রহর” বইটা পড়তে পড়তে ঘুমিয়ে পড়েছিস, খাবি না?

কী বলছো, হিমু ভাই কোথায়?
কীরে ঘুমের মধ্যে স্বপ্নে দেখেছিস নাকি। যা ফ্রেশ হয়ে খেতে আয় আমি বসে আছি।
আমিতো আবার বোকা বনে গেলাম। যাই হোক কেমন যেন লাগতেছে। তাহলে আমি কি এতক্ষন স্বপ্ন দেখছিলাম! হবে হয়তো। কেমন যেন ঘোরে ছিলাম। ধীরে ধীরে ঘোর কাটিয়ে ফ্রেশ হয়ে খাবার টেবিলে বসে কোন রকম খেয়ে নিলাম।

এখন প্রায় রাত ১০টা বাজতে চলছে। আলমারি থেকে পুরনো হলুদ পাঞ্জাবিটা বের করলাম। দড়িতে টাঙ্গানো জিন্স প্যান্টটা নিয়ে পরলাম। তারপর রাস্তার দিকে বেরোলাম। আজকের রাতটাও জোৎস্না রাত। হাঁটতে লাগলাম। নিচে তাকিয়ে দেখি স্যান্ডেলটাও পায়ে দিতে ভুলে গেছি। অবিশ্বাস্যভাবে আজকেও ঢাকা শহরে তেমন কোন জ্যাম নেই। তাই আর দেরী না করে ঐ দূরের চাঁদটাকে লক্ষ্য করে আমিও যেন হেঁটে চলছি কোন এক দিগন্ত পথে, অজানা কোন উদ্দেশ্যে।

 

ফেইসবুক থেকে করা মন্তব্যসমূহঃ

মন্তব্য করুনঃ

avatar
  Subscribe  
Notify of
Close