কবিতা জোড়

রমণীয় সেলাই জীবন

মামুন সুলতান

চৈত্রের আগুন তপ্ত হয়ে কার বুক জ্বলে ওঠে পোশাকপুরে লাবণীরা কাঁদে অগ্নিদূতের ডাকে

গাঁয়ের অবলা সাথী বিহানে ছেড়েছে গাঁও
বিয়ের কমাস পরেই সাথী ছেড়েছিলো স্বামীর ঘর
বাইন তালাকের নিন্দা নিয়ে ছেড়েছে বাপের ভিটা
কদিন পরেই পেট ছিঁড়ে জন্মালো নিশিকালের পুত
পুতেরে কান্ধে নিয়ে শহরের পথ ধরে
সেই থেকে সে পোশাকপুরে সেলাই কারিগর।

গার্মেন্টসে চাকরি করে বিরাট মাহিনা পায়
একপুতের কাপড়চোপড় চুলার গরমভাত
নিয়ন আলোয় নাইতে আসে দিনের বেলায় পাপ
এক কামিজে যায় কাজে সে অন্য কাপড় তোলা
ঘুরতে গেলে সেই কাপড়ে খুঁজতে বেরোয় সুখ

আচমকা এক গজব এসেছে
তাই ছাড়তে হবে ঢাকা
তাই চলে গেলো নিরালায় নিরাপদে…

আবার আদেশ ফিরে আসা চাই
আজই আসো ফিরে সেই আদেশে
দূর গাঁও থেকে পায়ে হেঁটে হেঁটে দুইশ মাইলের পথ
গাঙে মাঝি নাই হাত পায়ে ধরে পার হলো বড়গাঙ
তারপরে ভ্যানের চাকায় ঘুরে ঘুরে স্ট্যান্ডে এসে
বাস নাই গাড়ি নাই পেটেও পড়েনি দানা

পুতের কপালে চুমু আর করোনার গায়ে লাত্থি
নিজেরে নিজেই দেয় অভিশাপ
কপালেরে দেয় দোষ
আসে শহরের বুকে সেলাই করতে নিজের ভাগ্যজামা
সেলাই হয়ে গেলো কথাবলা মুখ
কাজল ধারায় নদী হয়ে গেলো লাজেভরা দুটিচোখ
কর্তার কথায় জীবন মরণ কর্তার কথায় দৌড়
লাবণ্যদের এমনি কাটে লাবণ্যহীন জীবন
আগুনের উত্তাপে জ্বলে রমণীয় জীবন-যাপন।

ফেইসবুক থেকে করা মন্তব্যসমূহঃ

একই রকম আরোও

মন্তব্য করুনঃ

avatar
  Subscribe  
Notify of

আরোও দেখুন

Close
Close