আমার চোখে

স্মৃতি নদীর জল

হাফসা তালুকদার

প্রত্যেক মানুষের জীবনে কিছু স্মৃতি আছে। মানুষ গভীর আবেগে তা স্মরণ করে। আগলে ধরে রাখতে চায় তার অতীতকে। কখনো বুক ফুলা দীর্ঘ নি:শ্বাসে নীরব হয়ে যায় তার স্মৃতি নদীর জল।

আমার শৈশব কেটেছে বছরের অর্ধেকটা সময় গ্রামে আর অর্ধেকটা শহরে।

গ্রাম আর শহরের দুটো জীবনই আমি উপভোগ করেছি। তবে সবচেয়ে বেশী আনন্দ পেতাম ব্রাহ্মণবাড়িয়ার তীতাস নদীর পাড়ের ফতেহপুরে। জীবন প্রথম অধ্যায়ের শুরু এখানেই। গ্রীষ্ম, শীত কিংবা ঈদের ছুটি পেলেই গ্রামে থাকা হতো অনেকদিন। গ্রামের নদীতে গোসল, মাছ ধরা, সকালে কাবাডি, হাডুডু, বউচি, সন্ধ্যায় কানামাছি, লুকোচুরি, কুতকুত আরো কত খেলা! সবচেয়ে বেশী মনে পড়ে বান্ধবীদের নিয়ে টুনাটুনির খেলা। মাটির হাড়ি-পাতিল, বাটি,কলসি আর ছোট চুলা দিয়ে ঘর সংসারের খেলা খেলতাম। পুতুল খেলার জন্য ছোট ছোট কাপড়ের টুকরো নিয়ে আসতাম টেইলার্সের বাড়ী থেকে।

ঢাকায় এসে ছোট ভাই মোস্তফিজের সাথে অনেক মজার মজার খেলা খেলতাম। তার সাথে খেলতাম হাড়ি-পাতিলের খেলা। ভাই-বোন মিলে বাসার বারন্দায় বসে খেলতাম। প্রায়ই মাটির ছোট চুলায় কাগজে আগুন দিয়ে ভাত রান্না করা খেলা খেলতাম। একদিন ভাই- বোন মিলে মোমবাতি দিয়ে আগুন ধরিয়ে ভাত রান্না খেলা শুরু খেলাম। ছোটভাই হঠাৎ কি কাজে বের হয়ে গেল। আর আমি মোমবাতি জ্বালিয়ে রেখেই কি কাজে ব্যস্ত হয়ে গেলাম। হঠাৎ দেখি মাথা গরম হয়ে গেলো। নাকের মধ্যে এসে লাগলো চুল পুড়ার গন্ধ। সাথে সাথে মোমবাতি নিভিয়ে ফেললাম। মোমবাতিটা রাখা ছিলো ঠিক মাথা বরাবর। ভাগ্য ভালো যে বড় কোন দুর্ঘটনা ঘটেনি। আজ আর সেদিনটিও নেই। জমা হয়ে গেছে পুরনো ডায়রীতে।

যখন বাড়ি থেকে ঢাকায় আসতাম গ্রামের জন্য ভীষণ মন খারাপ হতো। আমি অনেক কান্না-কাটি করতাম। খুব মনে পড়ে সেই দিনগুলোর কথা। পুরনো স্মৃতিরা বার বার ঢেউ তোলে ‘স্মৃতি নদী’র জলে।

 

ফেইসবুক থেকে করা মন্তব্যসমূহঃ

একই রকম আরোও

মন্তব্য করুনঃ

avatar
  Subscribe  
Notify of
Close