আমার চোখে

বিন্দু অথবা সিন্ধু

মুসা আল হাফিজ

০১

সাধারণ ময়ূররা পেখম মেলে নিজের আভিজাত্য দেখায়। কিন্তু কিছু অভিজাত ময়ূর নিজের আভিজাত্য রক্ষার জন্য অধিকাংশ সময় পেখম গুটিয়ে রাখে।

০২

যিনি আদর্শের সীমানায় আটকে থাকতে জানেন, আদর্শ তার গুরুত্বকে কোনো সীমানায় আটকে থাকতে দেবে না।

০৩

সাফল্য আশীর্বাদই বটে।কিন্তু কিছু ব্যক্তির ‘সাফল্য’ সমষ্টির জন্য বিপর্যয় বয়ে আনে!

০৪

অনেকেই নিজের হৃদয়কে প্রচণ্ড লবণাক্ত করে দেয়। ফলে ভালোবাসার সাগরে থেকেও তৃষ্ণায় তাদের মরতে হয়।

০৫

কার ব্যক্তিত্ব কেমন,তা বুঝিয়ে দেয় প্রতিকূল পরিস্থিতি। তখন যে যেমন প্রতিক্রিয়া দেখায়, তার ব্যক্তিত্ব অনেকটা তেমনই!

০৬

বিপর্যয় দুনিয়াকে বিপন্ন করতে আসেনি, পথ দেখাতে এসেছে!

০৭

শিক্ষার প্রকৃত মূল্য লুকিয়ে আছে সুষ্ঠভাবে তার প্রয়োগের মধ্যে,ভালোভাবে তার জানার মধ্যে নয়।

০৮

সময় একসময় ঝড়ো হাওয়ার অনুকূলে থাকে,সব সময় নয়!

০৯

চিন্তামূলক প্রভাব সেটাই, যা খুবই সন্তর্পণে, সূক্ষ্মভাবে সমাজের একটি অংশের মনে ও জীবনে প্রবেশ করে!

১০

অপসংস্কৃতি সব সময় কুৎসিত মনের খাবার- পানীয় যোগিয়ে চলে, যাতে ভালো মনও কুৎসিত মনের অনুগত হতে পারে!

১১

যদি দাবি করো তোমার দু’টি পা আছে, তাহলে পৃথিবীর বুকে পদচ্ছাপ রেখে প্রমাণ পেশ করো।

১২

স্বৈরাচারের কাছে চিন্তার মুক্তির মানে হচ্ছে, স্বাধীন চিন্তকের মাথাকে ধড় থেকে মুক্ত করা!

১৩

মূর্খরা চায় সত্যকে তৈরী করবে। জ্ঞানীরা জানে, সত্যকে তৈরী করতে হয় না।বিশ্বপ্রকৃতিতে সত্য আগ থেকেই তৈরী হয়ে আছে। হৃদয়ের দৃষ্টি দিয়ে তাকে শুধু খুঁজে নিতে হয়!

১৪

ইসলাম জানে,কীভাবে নিজের উপস্থিতিকে অপরিহার্য প্রমাণ করা যায়, যখন তার উপস্থিতি প্রতিরোধ করাকে অপরিহার্য মনে করা হচ্ছে!

১৫

ইসলামের সৌন্দর্য এমনই যে, যতোই আপনি ইসলামের সৌন্দর্যে ডুবতে থাকবেন, ততই মনে হবে ইসলামের সৌন্দর্যের কমই গভীরে যেতে পেরেছেন।

১৬

ইসলামের প্রতিপক্ষদের জন্য খারাপ পরিস্থিতি এই যে, ইসলামের জন্য খারাপ পরিস্থিতি বলে কিছু নেই! মুসলিমরা মনে করে এই পরিস্থিতি খারাপ বা ঐ পরিস্থিতি ভালো। কিন্তু সব পরস্থিতিতে ভালোকে নিশ্চিত করার সক্ষমতার ধারক হচ্ছে ইসলাম।

১৭

ইসলামের প্রতি নির্ভর করা যেতেই পারে। কারণ ইসলাম এই অপধারক মুসলিমদের উপর নির্ভরশীল নয়।

১৮

সত্যিকার গ্লোবালাইজেশন চাইলে ইসলামে আসাই যায়। কারণ ইসলামের কাছে গোটা সৃষ্টিজগত আল্লাহর পরিবার। প্রাণ ও প্রকৃতির জন্য নিরাপদ গ্লোবালসিস্টেম চাইলে ইসলামে আসাই যায়, কারণ ইসলামে মানুষ এই গ্লোবালসিস্টেমে ; নিখিলপ্রকৃতিতে খলিফা- ইনসাফের যিম্মাদার!

১৯

ইসলাম যে জাহেলিয়াতি মানসিকতার উচ্ছেদ চায়, আজকের দুনিয়ায় অজ্ঞ ও হটকারী শ্রেণির মুসলিমদের কাছে সেটা ইসলামি মানসিকতা। ইসলাম যদি হাতে অস্ত্র নিতে পারতো, এই বিকৃতির গোড়াকে সবার আগে কেটে ফেলতো!

২০

ইসলামকে যারা ব্যক্তি ও গোষ্ঠীগত সম্পত্তি বানায়,তারা পকেটে স্বর্গ ও নরক নিয়ে হাঁটে! যাকে ইচ্ছা স্বর্গে পাঠায়, যাকে ইচ্ছা,নরকে ফেলে দেয়। তাদের স্বর্গ- নরক ইসলামের জান্নাত- জাহান্নাম নয়!

২১

একটি শ্রেণি ইসলামকে রাখে কেবল মুখে, এক শ্রেণি রাখে কেবল কর্মে,আরেক শ্রেণি বলে, ইসলাম আমাদের হৃদয়ে।
কেবল মুখে যারা রাখে, তাদের ইসলাম সুন্দর কথামালা। কেবল কর্মে যারা রাখে, তাদের ইসলাম কিছু রীতি ও আচার। আর যারা ভাবে, ইসলাম শুধু হৃদয়ের, তাদের ইসলাম বায়বীয় কিছু অনুভব।

প্রকৃত ইসলাম হৃদয়ে শেকড় গাড়ে, কর্মে ফসল ফলায়, উচ্চারণ ও কথামালায় ছড়িয়ে দেয় পরিপক্ব সুঘ্রাণ!

২২

কুকুরটি কেমন, তা দেখে মালিকটি কে ও কেমন, তা দেখতে পারার নাম রাজনৈতিক দৃষ্টিশক্তি!

২২

কুকুরের বিচারে দুনিয়ার সবচে’ দরকারী ভাষণ ঘেউ ঘেউ!

২৩

কুকুর শাসন করতে চায় দাঁত ও নখ দিয়ে!

২৪

সাম্রাজ্যবাদের হুক্কাহুয়া আর সিভিল সোসাইটির হুক্কাহুয়ায় পার্থক্য হলো সাম্রাজ্যবাদ হুক্কাহুয়া বলে প্রতিধ্বণি চায় আর সিভিল সোসাইটি হুক্কাহুয়া বলে প্রতিধ্বণি করে!

২৫

ইলমওয়ালা ( জ্ঞানসম্পন্ন) ব্যক্তিও বিপদজনক হয়ে উঠতে পারেন,যদি তিনি হিলমওয়ালা ( সহনশীল) হতে না পারেন।

২৬

অবিচার ও বিপর্যয় পরস্পরে রক্তসম্পর্কের আত্মীয়!

২৭

বিপদ আসাটা মূল সমস্যা নয়, মূল সমস্যা হচ্ছে বিপদে দিশেহারা হয়ে যাওয়া!

২৮

বুদ্ধিমান মানুষ দিয়ে লোকেরা সমস্যার সমাধান আশা করে। কিন্তু অধিকাংশ সমস্যার গোড়ায় ‘ বুদ্ধিমান’রাই থাকে। সমাধানে থাকে তারা,যারা মহৎ ও বুদ্ধিমান!

২৯

সমাধানের তালাশে লোকেরা যেখান থেকে পালায়, হতে পারে, সমাধান সেখানেই লুকিয়ে আছে!

৩০

আজকের সমস্যাটা গতকালের গর্ভে লুকিয়ে ছিলো। আগামীকালের সমাধান আজকের গর্ভে লুকিয়ে আছে!

৩১

সৌভাগ্য হতভাগার সামনেও আসে। ভাগ্যবানরাই কেবল একে ধরে রাখতে পারে।

৩২

সবাই বলে,দিন – রাত চব্বিশ ঘণ্টা। কিন্তু দিন- রাতে যতো ঘণ্টাকে আমরা কাজে লাগাই,আমাদের দিন- রাত কেবল ততো ঘণ্টা!

৩৩

তুমি যদি নিজের মতো করে নিজের পরিচয় না লেখো,অন্য কেউ তার মতো করে তোমার পরিচয় লেখবে!

৩৪

তুমি জ্ঞানের ভোক্তা। অতএব লাইব্রেরি সন্ধান করছো। তুমি জ্ঞানের উৎপাদক হলে লাইব্রেরি তোমাকে সন্ধান করবে!

৩৫

গুলি করতে পারলেই যোদ্ধা হওয়া যায় না। যোদ্ধা হতে হলে জানতে হবে,কখন গুলি করতে হয়। কিন্তু ভালো যোদ্ধা হতে হলে আত্মস্থ করতে হবে গুলি না করেই জয় ছিনিয়ে আনার কৌশল!

৩৬

সমস্যাটি যেহেতু সাপ, তোমাকে সাপুড়ে হওয়া উচিত। সমস্যাটি চোর হলে তোমাকে পুলিশ হতে হতো!

৩৭

নিজেদের ভাগ্য বদলাবার জন্য ইসলাম বলে নিজেদের বদলাতে আর অপদার্থ মুসলিমরা নিজেদের না বদলিয়ে ইসলামকেই বদলে দিতে চায়!

৩৮

খেয়ে দেয়ে বেঁচে থাকলেই জন্তুর চলে। কিন্তু মানুষকে জানতে হয়, কেন সে খেয়ে দেয়ে বাঁচবে?

৩৯

অজগর গরুটা গিলে তৃপ্ত হলো,ঘুমিয়ে পড়লো। কিন্তু পুঁজিবাদ দুনিয়াটা খেয়েও তৃপ্ত হচ্ছে না!

৪০

যেহেতু আমার জন্য দরোজা খুলা হলো না, আমিই দরোজা হয়ে গেলাম! আমার দরোজা হতে পারাটাই তার তরফ থেকে দরোজা উন্মোচন!

৪১

মানুষ তার প্রশ্নের সমান চিন্তাবিদ ।

৪২

খাওয়ার জন্য লম্বা গলা থাকলেও সৃজনশীলতায় সক্ষম মাথা ও হাত না থাকায় ডায়নোসোর বিলুপ্ত হয়ে গেছে!

৪৩

যদি কখনো ডুবে মরি, সুগন্ধির ঝরনায় ডুবে মরবো!

৪৪

নিজের শক্রুদের মাথা যদি গুড়িয়ে দাও, বুঝা যাবে তুমি প্রতিশোধ নিতে পারো। নিজের শক্রুদের মাথা যদি অধিকার করো,বুঝা যাবে তুমি জয় করতে পারো!

৪৫

এই যে চিন্তাহীনতা ও চিন্তা করতে না পারা,এর মূলে আছে চেপে বসা চিন্তাহীন শিক্ষা ও সংস্কৃতির ‘ চিন্তাধারা’!

৪৬

লড়াই করলে আগামীকাল বিজয় আসবে, তা নিশ্চিত নয়,কিন্তু লড়াই না করলে আগামীকাল পরাজয় আসবে,তা নিশ্চিত!

৪৭

উপমহাদেশীয় মুসলিমরা ঔপনিবেশিক শাসনের বিরুদ্ধে সবচে’ বেশি লড়াই করেছে। কিন্তু এখনো নিজেদের মনে ও শিক্ষায় পরম আদরে জারি রেখেছে ঔপনিবেশিক শাসন!

৪৮

বেশি অন্ধকারের সমাধান কম অন্ধকার নয়!

৪৯

আমার কাছে নিশ্বাস নেয়ার মানে হচ্ছে নিজেকে পূণরোৎপাদন করা।

৫০

১৯৭১ গুরুত্বপূর্ণ, এর মানে হচ্ছে, আরো ১৯৭১ দরকার!

৫১

খারাপ কিছুর জন্য বিশেষ ব্যক্তি বা ঘটনাকে দায়ী করে দায় সারা যায়। কিন্তু মুক্তি পেতে হলে খারাপ ব্যবস্থাকেও চ্যালেঞ্জ করতে হবে!

৫২

অনেকেই ভাবে, শিল্পসাহিত্যের মানুষ রাজনীতি নিয়ে মুখর হলে রাজনীতির ওজু ভঙ্গ হয়। তারা আসলে রাজনীতিকে বুঝে না।

অনেকেই ভাবে, শিল্পসাহিত্যে রাজনীতি হাজির হলে শিল্পসাহিত্যের ওজু থাকে না। তারা আসলে শিল্পসাহিত্যকে বুঝে না।

৫৩

বিদ্রোহের বিস্ফোরক ছাড়া স্বাধীনচিন্তা অর্থহীন!

৫৪

যে শিক্ষায় ভিক্ষার যুক্তি ও মানসিকতা লুকিয়ে থাকে,সে শিক্ষা স্বাধীন মন গড়তে পারে না!

৫৫

প্রদর্শনীমূলক সদগুণে এমন কিছু প্রকাশিত হবেই,যা ‘সদগুণ’কে হীন প্রমাণ করবে!

৫৬

আগুন আসলে কী? সবচে’ ভালো বলতে পারবে অগ্নিদগ্ধরাই!

৫৭

রাত হলো আকাশ ও জমিনের গুপ্তরহস্যের বই। দিন হলো তার প্রচ্ছদ!

৫৮

কৃষকের বিজ্ঞপ্তি!

যখন আমাকে তোমাদের মাঝে পাচ্ছো না, বুঝে নিয়ো চাষাবাদে আছি। যখন চাষীদের খেতে পাওয়া যাবে না, বুঝে নিয়ো আকাশের খেতে আছি। জমিনে আমাদের খেত আছে, আসমানেও। জমিনের খেতের ফসল মুখ দিয়ে খাই, আকাশের খেতের ফসল খাই হৃদয় দিয়ে!

৫৯

শরীরকে বললাম, বলার ভাষা পেলে মানুষের কাছে তুমি কী বলতে ?
সে বললো, নিবেদন করতাম, প্রয়োজনের অধিক খাদ্য ও পোশাক দিয়ে আমাকে কষ্ট দিয়ো না!

৬০

কুকুরের কাছে নেকড়ের ঘুম অনেক মূল্যবান। কারণ সে যতক্ষণ ঘুমায়, ততক্ষণই কুকুরের শাসনামল!

৬১

বজ্র মাথায় পড়ার আগ পর্যন্ত লোকেরা তাকে মনে করে মেঘের ডাক!

৬২

সংগ্রাম জীবনের এক বেলাভূমি, শান্তি আরেক বেলাভূমি। লোকেরা চায়, শান্তির বেলাভূমি থাকুক, সংগ্রামের বেলাভূমি না থাকুক। কিন্তু ইতিহাস বলে, সংগ্রামের বেলাভূমি না থাকলে শান্তির বেলাভূমি নিশ্চিহ্ন হয়ে যায়!

৬৩

সুবাতাসকে বললাম তুমি থাকো কোথায়?
সে বললো, তুফানের পরিশেষে!

৬৪

কোলাহলকে বললাম, তুমি বিরক্তিকর কেন?
সে বললো, আমি শুধু শব্দ পেয়েছি, মর্ম পাইনি!

৬৫

যুগজ্বরে আক্রান্ত না হলে কাশির শব্দে চারদিক কাঁপানো যায় না। কিন্তু যুগজ্বরের নিরাময় না জানলে মৃত্যু অবধি কাশি থামানো যায় না!

৬৬

আসেন,সংক্ষিপ্ত হই,বিস্তারিত হবার প্রয়োজনে!

৬৭

চমকপ্রদ কিছু বলার অভিপ্রায় অনিয়ন্ত্রিত হলে বড় জ্ঞানীও ব্রয়লার হতে থাকেন!

৬৮

বন্ধুর সংবেদনশীলতা না বুঝলে বন্ধত্ব হয় না!

৬৯

বুদ্ধিজীবী কখন বলদ হয়,এটা বুদ্ধিজীবী ছাড়া সকলেই দেখতে পায়!

৭০

প্রশ্ন: চিন্তায় নৈরাজ্যের লক্ষণ কী?
উত্তর : ছোট ঘটনায় বড় প্রতিক্রিয়া, বড় ঘটনায় ছোট প্রতিক্রিয়া!

৭১

প্রশ্ন: চিন্তায় নাবালকত্বের লক্ষণ কী?
উত্তর : দরকারী বিষয়ে দরকারী প্রতিক্রিয়া না থাকা এবং অদরকারী বা কম দরকারী বিষয়ে সর্বাত্মক প্রতিক্রিয়া!

৭২

প্রশ্ন: চিন্তাশূন্যতার লক্ষণ কী?
উত্তর : যেটা ক্ষতি ও বিপর্যয় নিয়ে এলো, তাকেই ক্ষতি ও বিপর্যয়ের প্রতিকার মনে করা!

৭৩

প্রশ্ন: চিন্তায় পরাজয়ের লক্ষণ কী?
উত্তর : ক্রিয়া হতে না যাওয়া এবং প্রতিক্রিয়ার মধ্যে আটকে থাকা ।

৭৪

প্রশ্ন: প্রেমিকের পাগলামী কী?
উত্তর : জানের দুশমনকে সে জান বলে চলে!

৭৫

আমার কাছে কিছু স্বপ্ন আছে। তোমরা ঘুমাচ্ছো বলে দেখাতে পারছি না। ঘুম থেকে জাগো, স্বপ্ন দেখাবো!

৭৬

প্রশ্ন করা হলো, অাদর্শ পীর কে?
মতলবি মুরিদের মন বললো, যে পীরের পরিচয়ে নিজে বড় সাজা যায়!

৭৭

প্রশ্ন করা হলো,আদর্শ মুরিদ কে?
মতলবি পীরের মন বললো, যে মুরিদ টাকাওয়ালা

৭৯

প্রশ্ন: ইহুদিবাদের জুতা বানিয়ে দেয় কে?
উত্তর: শিয়াবাদ

প্রশ্ন : সেই জুতা মুছে দেয়ার কাজ করে কে?
উত্তর : কিছু আরব রাজপরিবার!

প্রশ্ন : জুতার কারিগর আর জুতা মুছার কামলার মধ্যে ঝগড়া বাঁধায় কে?
উত্তর :ইহুদিবাদ

প্রশ্ন : কেন সে আপন কামলাদের মধ্যে ঝগড়া বাঁধায়?
উত্তর : যাতে উভয়েই পরস্পরের বিরুদ্ধে শক্তিক্ষয় করে দুর্বল হয়, দুর্বল থাকে। উভয়েই যাতে তার কাছে বিচারপ্রার্থী হয় এবং এর বিচারে ওর আর ওর বিচারে এর কান মলে দেয়া যায়!

প্রশ্ন : এতে তার কী লাভ?
উত্তর : কানমলা খেতে খেতে কামলা দাস হতে থাকে; দাসত্ব যায় স্থায়িত্বের দিকে। কানমলা দিতে দিতে মনিব প্রভু হতে থাকে; প্রভুত্ব যায় স্থায়িত্বের দিকে।

৮০

প্রশ্ন:চারপাশে যা কিছু দেখি, তা আসলে কী?
উত্তর : যা কিছু দেখি, তা আসলে দলিল এমন কিছুর, যাকে আমরা দেখি না!

৮১

প্রশ্ন : ফুলের প্রতি অবিচার কখন করা হয়?
উত্তর : যখন তাকে পাতা বা ডালের মতো ওজন করা হয়!

৮২

প্রশ্ন : জনপ্রিয় রচনা আসলে কী?
উত্তর : সাধারণ পড়ুয়াদের মন যোগানোর চেষ্টা।

৮৩

প্রশ্ন : স্বাধীন চিন্তার বিপদ কী?
উত্তর : প্রথমে তাকে বিপদ ও পাগলামী মনে হয়!

৮৪

প্রশ্ন : স্বাধীন চিন্তার শক্তি কী?
উত্তর : পরিণতিতে তাতে উত্তরণ ও সুস্থতা তালাশ করা হয়!

৮৫

প্রশ্ন : মানুষের বোধের আগ্রগতি কীভাবে ঘটেছে?
উত্তর : যা প্রথমে অবোধ্য মনে হয়, তাকে ক্রমেই বোধের আওতায় নিয়ে আসার মধ্য দিয়ে!

৮৬

প্রশ্ন : ভাইরাস আর ভাইরালের মধ্যে সম্পর্ক কী?
উত্তর : একটি আরেকটির মা!

৮৭

প্রশ্ন: বিশ্বাসীরা কীসের যোগ্য নয়?
উত্তর : পরাজয়ের!

প্রশ্ন: তাহলে তারা পরাজয়ে ডুবে আছে কেন?
উত্তর: বিশ্বাসের সত্যে তাদের কর্ম ও জীবন ডুবছে না!

৮৮

প্রশ্ন: অসাধারণ জীবন কোথায়?
উত্তর : সাধারণ জীবন যাপনে!

৮৯

অনেকেই কমেন্ট করে পড়াশোনা করে, সেটা বুঝাতে। কিন্তু তাদের কমেন্ট বুঝিয়ে দেয়, তারা পড়াশোনা করে না!

৯০

প্রশ্ন: মিডিয়া ও শিয়ালের মধ্যে মিল কোথায়?
উত্তর: সব মিডিয়ার এক রা’

৯১

বন্যপ্রাণীদের সঙ্গীতশিল্পী নেকড়ে!

৯২

আমি যে বই লিখি, তা কলমের কালি ছাড়া লেখা যায় না। কিন্তু আমি যে বই, তা হৃদয়ের অশ্রু ছাড়া লেখা যায় না!

৯৩

প্রশ্ন : কোন কবি মূলধন হারায়?
উত্তর : যে কবি শৈশব হারিয়ে ফেলে, সে মূলধন হারায়!

৯৪

প্রশ্ন : কবির আসল জন্ম কখন হয়?
উত্তর : কবির প্রথাগত মৃত্যুর মধ্য দিয়ে!

৯৫

আজকের বিশ্বে সুশাসন একটি প্রেতাত্মা। সবাই তার কথা বলে, কিন্তু কেউ তাকে দেখেনি!

৯৬

প্রশ্ন: ঐতিহ্যের অঙ্গীকার কী?
উত্তর: তাকে রক্ষা করলে সে আমাদের রক্ষা করবে!

৯৭

প্রশ্ন: সাফল্যের দুর্বল দিক কী?
উত্তর: অনেক সাফল্য অনেক ব্যর্থতার সমান। কিন্তু কিছু সাফল্য এমন আছে,যা ব্যর্থতার চেয়ে ভয়ঙ্কর!

৯৮

প্রশ্ন: সিংহের কখন মন খারাপ হয়?
উত্তর: যখন বাঘের বদলে বুনো কুকুর তাকে কামড়াতে আসে!

৯৯

প্রশ্ন: মুসলিমদের ভেতরগত বিরোধ কখন ইসলামী চরিত্র হারায়?
উত্তর : বিরোধটা যখন ভালো-মন্দের থাকে না, লড়াই হয় কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠার।

১০০

সে বললো, অগ্রসর চিন্তা আমার চাই।

বললাম, চারপাশের লোকেরা তোমাকে বুঝছে না, এমন দুর্বহ পরিস্থিতি সইতে পারবে?

১০১

দার্শনিকের কথা লোকেরা বুঝলে বলে, ওটা তো আমারই মনের কথা, না বুঝলে বলে ওটা তো পাগলের কথা।

১০২

দার্শনিক সেই বোকা, যে সবার জন্য সবারটুকু সহজেই বুঝে,নিজের জন্য নিজেরটুকু কষ্ট করেও বুঝে না!

১০৩

দার্শনিক মানেই সবার হয়েও কারো নয়। সে সবার জন্য কাজ করে, কিন্তু সবাইকে খুশি করার জন্য করে না। তার কাজের উপকার ভোগ করে সবাই, কিন্তু সে আক্রান্ত হয় সকল শ্রেণির হাতে। কারণ তার চিন্তার তীরে প্রত্যেক শ্রেণিই নিজেদের নানাভাবে আক্রান্ত মনে করে!

১০৪

জনপ্রিয়তার কামনা আর দার্শনিকতা একসাথে থাকতে পারে না। হয়তো জনতুষ্টির ইচ্ছে দার্শনিকতাকে খেয়ে ফেলবে নতুবা দার্শনিকতা জনতুষ্টির অভিপ্রায়কে মেরে ফেলবে!

১০৫

দার্শনিকের চোখে সবার কাছে প্রিয় হবার চেষ্টা প্রথম শ্রেণির অনৈতিকতা!

১০৬

দার্শনিক স্বভাব যে পেয়েছে, তার নিয়তি হলো, আচরণে সে চিরকাল শিশুসরল থেকে যায়!

১০৭

সত্য একটি বাঘ হলে দর্শন সেই বাঘের থাবা!

১০৮

দার্শনিক জানেন, সমাজ ও সমকাল তাকে সাধারণত বুঝবে না। কারণ তিনি সমাজ ও সমকালকে বুঝেন।

১০৯

দর্শন কী কাজের? সে তো কোনো রাষ্ট্র,রাজধানী,বিচারালয়,বিদ্যালয়,যানবাহন কিংবা সেতু – সড়ক বানায় না। কিন্তু দর্শনই তোমাদের গড়ে দিয়েছে রাষ্ট্র, রাজধানী, বিচারালয়, বিদ্যালয়,যানবাহন কিংবা সেতু – সড়ক বানানোর মন!

১১০

লোকেরা ব্যস্ত জটিলতার ডালপালা নিয়ে, যা তারা দেখছে। দার্শনিক ব্যস্ত জটিলতার শেকড় নিয়ে, যা তারা দেখছে না!

১১১

দুঃখ সাধারণত তত বড় হয় না, যত বড় হয় দুঃখের ছায়া!

১১২

আমরা আসলে আমাদের সীমাবদ্ধতার চায়ের কাপে ডুবে থাকা একেক চামচ!

১১৩

ধর্মের বড় ক্ষতি ধর্মদ্রোহীরা করে না, ধর্মের প্রধান ক্ষতি ডেকে আনে ধর্মকে না বুঝা ধর্মান্ধরা!

১১৪

লোহার বেড়ি লাগানো হয় হাতে- পায়ে। সে মানুষকে বন্দি করে মাত্র। সোনা- রুপার বেড়ি লাগে মানুষের মনে। সে মানুষকে একেবারেই খেয়ে ফেলে!

১১৫

ইলিশের স্মৃতিচারণে কী লাভ সেই নদীর, যে মরে গেছে!

১১৬

ছা-পোষা লোকেরা কামনা করে শান্তি। লড়াকুরা উপড়ে দিতে চায় অশান্তির শেকড়!

১১৭

চারদিকে অন্ধকার, এটা বাস্তব। কিন্তু এর চেয়েও করুণ বাস্তব হলো,অন্ধকারেও ভেজাল ঢুকে গেছে!

১১৮

জীবন প্রতিদিন নতুন নতুন দুঃখ দিচ্ছে না। পুরনো দুঃখের নবায়ন করছে মাত্র!

১১৯

যারা প্রাপ্য না পেয়ে কাঁদছো, জেনে রাখো,পাওনা টাকা পেতে হলে বার বার চাইতে হয়!

১২০

জানাজা একই রকম কাফনের কাপড়ে বড় ও ছোট’র ভেদ মিটিয়ে দিতে চায়। কিন্তু লোকেরা ভাবে,জানাজায় জানা যায়, কে ছোট আর কে বড়!

ফেইসবুক থেকে করা মন্তব্যসমূহঃ

একই রকম আরোও

মন্তব্য করুনঃ

avatar
  Subscribe  
Notify of

আরোও দেখুন

Close
Close