অনুবাদ

সিমাস হিনি’র কবিতা

অনুবাদ: আবু সাঈদ ওবায়দুল্লাহ

মাটি খোঁড়া

আমার আঙুল আর বুড়ো আঙুলের মাঝখানে
এক পৃথুল কলম বসে থাকে, আরাম করে বন্দুকের মতো।
যখন কোদাল ঢুকে যায় পাথুরে জমিনে
জানালার নিচে খরখরে আওয়াজ শুনি
দেখি- আমার বাবা মাটি খুঁড়ছে।

আমি নিচে তাকিয়ে থাকি
যতক্ষণ না তার টানটান পাছা বসে পড়ছে
ঝুঁকছে নিচু হয়ে- ফুলের বিছানায়।

কুড়ি বছর পার করে চলে আসে সে
এমন করে উবু হয়ে আলু রোপনের ছন্দে
যেখানে সে মাটি খুঁড়ে চলত প্রত্যহ।

পুরনো বুট জুতা আশ্রয় নেয় হাতলে
আর লাঠি শক্ত করে বসে পড়ে দুই হাঁটুর মাঝখানে।
নতুন আলু ছড়িয়ে দিতে -যেগুলো আমরা পেরেছি,
সে উপরের লম্বা পাতাগুলো ছেঁটে দেয়
আর গভীরে ঢুকিয়ে দেয় ঘাসের উজ্জল কিনারা
ভালোবাসি আলুগুলোর ঠাণ্ডা শক্ত-কঠোরতা।

ও আল্লাহ, বুড়োটা কীভাবে কাজে লাগায় কোদালটাকে
যেমন তার বুড়ো বাবা করত এক সময়।

আমার দাদাও মাটির চাপড়া কাটত টোনারের জলায়
অন্য সব লোকের চেয়েও অনেক বেশি বেশি করে।
একদিন আমি তাকে কাগজের ছিপিতে আটকানো
বোতলে দুধ দিতে যাই- মনে পড়ে।
সে বোতলটা সোজাসুজি ধরে পান করল সবটুকু
তারপর সোজা লেগে গেল মাটি কাটার কারুকাজে।
কাধের উপর দিয়ে মাটির চাপড়া উঠিয়ে
নিচে আরো নিচে নামল -ভালো মাটির জন্য
মাটি খোঁড়া চলল এভাবে।

আলুর দলার ঠাণ্ডা গন্ধ, ভেজা মাটির উপর হেঁটে যাওয়ার
প্যাচ প্যাচে আওয়াজ, জীবন্ত শেকড়ের মধ্য দিয়ে
ঘাসগুলোর ছোট টুকুরো– আমার মাথার ভেতরে ওঠে জেগে!
কিন্তু আমার কোনো কোদাল নেই–
তাদের মতো লোকদের পেছনে যাওয়ার।
আমার আঙুল আর আমার বুড়ো আঙুলের মাঝখানে
এক পৃথুল কলম বসে থাকে
আমি খুঁড়বো তাকে দিয়ে।

[সিমাস হিনি(জন্ম ১৯৩৯, মৃত্যু ২০১৩) বিংশ শতাব্দির একজন বড় মাপের কবি। স্বভাব আর মননে অতীত আর ঐতিহ্যপ্রেমি এই কবি প্রায়ই চলে যান অতীতে, ইতিহাসের গর্ভে।

কবির এ পর্যন্ত বিশটি কবিতার বই বেরিয়েছে। তার কবিতার লিরিক্যাল সোন্দর্য আর নৈতিক গভীরতা, তার সাথে অলৌকিক ঘটনা আর অতীতগামীতার কারণে তিনি ১৯৯৫ সনে সাহিত্যে নবেল পুরস্কার পান। সিমাস হিনির জনপ্রিয়তা অংশত তার অনন্য সিগনেচার মার্ক বিষয়-বস্তুর জন্য।]

ফেইসবুক থেকে করা মন্তব্যসমূহঃ

একই রকম আরোও

মন্তব্য করুনঃ

avatar
  Subscribe  
Notify of

আরোও দেখুন

Close
Close