অনুবাদ

সামি বায়দারের কবিতা

অনুবাদ: আবু সাঈদ ওবায়দুল্লাহ

জল

জল ফোটে
এটি অসুস্থ মানুষের মেঘ,
তাপ ওঠে।
এই আগুন হলো
এই বসন্ত।
শেকড় গাছের উপরে বসে,
বাড়ি
অসুস্থ।

রাজার মুকুট

কেউ যদি একটা জানালা খুলে দেয়, অজানা
কোথাওনা, সময় নেই, সেখানে আরো একজন
তাকে দিয়ে এটি করাচ্ছে।
কবরখানার ইতিহাস বিচার করে, নক্ষত্রেরাও
রাজার মুকুট দেখে।

ওরা বলে-
সাতটি রঙের ভেতর আলোর পৃথিবী ধরে রেখেও
চাঁদ আর নক্ষত্র শুধু একটি ছোট বৃত্ত মাত্র,

এই ক্ষুদ্র কামনা মৃত্যুগামীদের জন্য নয়-
তবু বড় নক্ষত্ররেরা এই নিশ্চুপতায় পরোয়া করে না
এদের মধ্যে নিচু যে, সে এর ভার তুলে নেয়
আর তোমার চোখের ভেতর বসে থাকা সেবক
কিছুক্ষণের জন্য ইস্ত্রি করা থেকে বিরত থাকতে চায়।

[জীবিতকালে প্রায় অস্বীকৃত, অকালপ্রয়াত তুর্কী কবি সামি বায়দার এর কবিতাপাঠ পাঠকের জন্য এক নতুন অভিজ্ঞতা। আশি আর নব্বই দশকে যে কয়েকজন কবি তুর্কী কবিতার নতুন ভাষার পথ মেলে ধরেন তাদের মধ্যে দু’জন কবির নাম খুবই উল্লেখযোগ্য। তাঁরা হল- সায়হান এরোজসেলিক আর সামি বায়দার। দুজনই অকালপ্রয়াত, পঞ্চাশ ছুঁতে না ছুঁতেই প্রয়াত(আধুনিক তুর্কি কবিদের বাইয়োগ্রাফি পড়ে, অবাক হয়ে খেয়াল করি, সেখানে যেন অকাল প্রয়াতদের মিছিল চলছে!)

সুফি ঘরানার কবি সামি বায়দারের কবিতায় পাওয়া যায় তুর্কী সুফিধারার সিগনেচার মার্ক- নিজের অহমকে ক্রমাগত কষ্টবোধ আর অশ্রুপাতের মাধ্যমে বিলীন করে দেয়া। তাই তার কবিতার স্বর যুগপৎ মিলন ও বিয়োগ ব্যথায় কাতর, গাঢ় বেদনাস্নাত( তুর্কী ভাষায় ‘হুজুন’)। তার হাত ধরেই তার প্রিয় বিষয় হয়ে যায় জল- যা স্বভাবতই তরল আর অশ্রুর প্রতীক।

সামির কবিতার ফর্মও তার সমসাময়িক কবিদের চেয়ে আলাদা। পড়াশোনা করেছেন আর্ট ও পেইন্টিং-এ। তাই তার কবিতার ভাষা- পরম্পরাহীন, অসংলগ্ন, যেন ঝুলে থাকা শূন্য স্পেসে ধীরে ধীরে তার শব্দ জায়গা করে নিচ্ছে, সেখানে আপনা আপনি ফুটে ‌উঠছে তার কবিতার হাড় মাংস, আত্মা তথা সম্পূর্ণ কবিতা। যেন চিত্রকর বিভিন্ন স্পেসে, ছোপ ছোপ করে ব্রাশ চালিয়ে ফুটিয়ে তুলছেন তার বোধ আর ভাবনাগুলো।]

ফেইসবুক থেকে করা মন্তব্যসমূহঃ

একই রকম আরোও

মন্তব্য করুনঃ

avatar
  Subscribe  
Notify of
Close